আযহারী সা‌হে‌বের ভূল ফতোয়া আমা‌দের মাথা ব‌্যাথা ।



গতকাল মাওলানা মিযানুর রহমান আযহারি (হাফিযাহুল্লাহ )
ফেসবুক লাইভে একজন প্রশ্নকারীর জবাবে বলেছেন,
যাদের কোরান কারীম মুখস্ত নাই, তাদের জন্য তারাবীতে কোরান শরীফ
দেখে তেলাওয়াত করা জায়েজ।

এই কথা বলার পর থেকে আলেম নামধারী   কিছু ভাই ওনার
আবার সমালোচনা শুরু করেছেন,
তারা বলতেছেন,  আজহারী অশিক্ষিত,মূর্খ ,
ভূল ফতোয়া দেয়, ফেতনাবাজ ইত্যাদি ইত্যাদি.
তাদের জ্ঞ্যানের সীমাবদ্ধতার কারণে ওনাদের মত
নামাজে দেখে তেলাওয়াত করা জায়েজ নাই।
এবার আসুন, জেনে নিই,   মিযানুর রহমান আযহারি
 সাহেব কি ভূল ফতোয়া দিয়েছেন নাকি সঠিক বলেছেন?

প্রথমত আমরা নামাজের মধ্যে  দেখে  কোরান কারীম তেলাওয়াত সমপর্কে জেনে নিই,

#ফরজ_নামাজে_দেখে_কোরান_তেলাওয়াত
সর্ব সম্মতিক্রমে ফরজ নামাজে দেখে কোরান তেলাওয়াত করা মাকরুহ,,,
আমর ইবনে সালামা রাঃ
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাঃ বলেছেন
 তোমাদের মধ্যে যে অধিক পরিমান কোরান মুখস্ত জানে,
সেই যেনো ইমামতি করে।
 এই হাদীসের ভিত্তিতে সকল ইমাম গণ ফরজ নামাজে কোরান
থেকে দেখে পড়া মাকরুহ বলেছেন। আজহারি হুযুর ও তা বলেছেন।

#নফল_নামাজে_দেখে_তেলাওয়াত_করা

নফল নামাজে সবসময় সহজ দিক প্রধান্য দেওয়া হয়ে থাকে,,
যেমন #দাড়িয়ে_নামাজ_পড়া_ফরজ,
কিন্ত নফল নামাজ বসে বসে পড়াও জায়েজ।
তাই নফল নামাজের মাসয়ালা বর্ণনার সময় সহজতর বিষয়
 এর প্রতি  লক্ষ রাখা বাঞ্চনীয়।
তারাবীর নামাজ নাওয়াফেলের অন্তর্ভূক্ত,
তারাবীর  উদ্দেশ্য হচ্ছে #কিয়ামুল্লাইল তথা দীর্ঘ কেয়ামে নামাজ
আদায় করা,  এখন যারা হাফেজ,  তাদের জন্য লম্বা কেরাতে
 নামাজ আদায় করতে কোনো সমস্যা নাই,,  আর যারা হাফেজ নয়,
তাদের জন্য সহজ হয় যখন তারা দেখে পড়বে,

এই জন্য সালফে সালেহীনের ফতোয়া হচ্ছে,, যাদের কোরান মুখস্থ নাই,
 তাদের জন্য  নফল নামাজে দেখে দেখে কোরান তেলাওয়াত বৈধ,

 ইমাম শাফেয়ী, আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম যুহরী,
ইমাম বোখারী, শাইখ বিন বায,  শাইখ সালেহ আল উসাইমিন
শাইখ সালেহ আল মুমাজ্জিদ, সবার মতে
নন-হাফেজদের জন্য  নফল নামাজে দেখে
 দেখে কোরান তেলাওয়াত বৈধ,,  এতে করে কোরানের
প্রতি তাদের মুহাব্বত সৃষ্টি হবে।

দলীল, হযরত আয়েশা রাঃ, এর হাদীস,
যা বোখারী শরীফে এসেছে,

 عن عائشة رضي الله عنها أنه كان «يَؤُمُّهَا عَبْدُهَا ذَكْوَانُ مِنَ المُصْحَفِ»[4
 আয়েশা রাঃ এর যাকওয়ান নামক একজন দাস ছিলো,,
যিনি কোরান থেকে দেখে দেখে ইমমতি করাতেন।
(বোখারী,  জামাতে নামাজ অধ্যায়)
(বায়হাকী হাদীস নং ৩৪৯৭)

ইমাম যুহরী রহঃ কে নামাজে দেখে দেখে তেলাওয়াত করা
 সমপর্কে জিজ্ঞাস করা হয়,  তখন তিনি উত্তর দেন, আমাদের
চেয়ে উত্তম লোকেরা এমন আমল করেছেন,  (নামাজে দেখে কোরান পড়া)।

ইমাম মালেক রহঃ বলেন,
 قَالَ مالك: لَا بَأْسَ بِأَنْ يَؤُمَّ الْإِمَامُ بِالنَّاسِ فِي المُصْحَفِ فِي رَمَضَانَ وَفِي النَّافِلَةِ[6].
রমযানে এবং অন্যান্য নফল নামাজে ইমাম সাহেব যদি দেখে তেলাওয়াত করে,
এতে কোনো ক্ষতি নাই,
[(6] مالك: المدونة 1/288.)

ইমাম নববী রহঃ বলেন,
ইমামের জন্য দেখে তেলাওয়াত করাতে কোনো সমস্যা নাই,
এতে করে নামাজের ক্ষতি হবেনা,  তিনি আরো বলেন,
 যে ব্যক্তি মুখস্ত জানেনা,  তার জন্য দেখে তেলাওয়াত করাই কর্তব্য।  النووي: المجموع شر المهذب 4/95.)

তাহলে এই কথা পরিষ্কার যে,, নফল নামাজে দেখে কোরান তেলাওয়াত করা জায়েজ।

মিযানুর রহমান আযহারী সাহেব সালফে সালেহীনের কথাই বলেছেন, 
হাদীস এর কথা বলেছেন, নিজ থেকে বানিয়ে কিছু বলেন নাই।
সুতারাং আ‌মি ম‌নে এ বিষয় গ‌ু‌লো নিয়ে মাখামা‌খি না ক‌রে মুল থিমটা মানুষ‌কে বোঝা‌নো উ‌চিত ।

No comments

Powered by Blogger.