রমাদ্বনে ৪-৫ খতম কুরআন পড়েও যারা শুধু গুনাহ্ কাাচ্ছেন ।
শুরু হয়েছে রমাদ্বন মাস, আমরা বেশি বেশি
করে কুরআন তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ । দুঃখের বিষয় এ রমাদ্বনে আমরা কুরআন
খতমে প্রতিজোগিতা করে থাকি । আমরা একজন আারেক জনের সাথে দেখা হলে জিজ্ঞাসা করি এ রমাদ্বনে
কয় খতম করলেন ? আমি কিন্তু ৫খতম দিয়েছি । অপর দিক থেকে আরেকজন বলে আমি তো এবার অসুস্থ
তাই বেশি খতম দিতে পারিনি মাত্র তিন খতম দিয়োছ । এই হলো আমাদের সমাজে রমাদ্বনে কুরআন
খতমের অবস্থা । আমরা তাড়াহুড়া করি কিভাবে খতম শেষ করা যায় কিন্তু কুরআনকে যে শুদ্ধ
করে পড়তে হবে এই চিন্তা আমাদের মাথায় নাই ।প্রত্যেক নর-নারীর উপর কুরআনে কারিম এতটুকু সহিহ-শুদ্ধ করে পড়া ফরজে আইন
যার দ্বারা অর্থ পরিবর্তন হয় না। অর্থ পরিবর্তন হয় এমন ভুল পড়ার দ্বারা সালাত
(নামাজ) নষ্ট হয়ে যায়। যে ভূল তিলাওয়াতের
কারণে সালাত (নামায) শুদ্ধ হয় না সেই তিলাওয়াতে অবশ্যই সুওয়াব হবে না ।তাহলে এত কষ্ট
করে খতম দিয়ে লাভ কি ? কষ্ট করে তিন-চার খতম না দিয়ে বা খতমের চিন্তা মাথায় না রেখে
কুরআনকে সহিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করি ।হরফের উচ্চারণ,মাদ,গুন্নাহ ইত্যাদির
দিকে খিয়াল করে তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করি, আর এভাবে যদি এক খতম হয় তো আল হামদুলিল্লাহ
শুনায় শুহাগা মনে রাখবেন আপনি শুদ্ধভাবে কুরআন
পড়বেন তো আপনার সম্মান ফিরিস্তাগণেল সমতুল্য আর শুদ্ধভাবে কুরআন পড়ার চেষ্টা করার কারণ
দ্বিগুণ সুওয়াব ।বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের (নামাজ) জন্য যে সূরাগুলোর প্রয়োজন, সেগুলোকে
শুদ্ধ করে নেওয়া আবশ্যক, তিলাওয়াত শুদ্ধ না হলে সালাত আদায় হবে না।
হযরত আলী (রা.) বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা প্রত্যেকেই
এমনভাবে কুরআন পড়, যেভাবে
তোমাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে যেভাবে কুরআন
শিক্ষা দিয়েছেন এবং পরবর্তী উম্মতকে সাহাবারা যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন সেই পরম্পরায়
যেভাবে শুদ্ধভাবে কুরআন পড়ার রীতি চলে আসছে, সেভাবে
কুরআন পড়তে হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক হরফ স্বীয় মাখরাজ থেকে সিফাতে
লাজেমাসহ উচ্চারণকরতঃ মদ-গুন্নাহ আদায় করে পড়তে হবে।
সহিহ-শুদ্ধভাবে
কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা করার ফজিলত
হযরত উসমান (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের
মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করে এবং অপরকে কুরআন শিক্ষা দেয়। -সুনানে আবু দাঊদ, হাদিস:
১৪৫২
হযরত আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, নবী করীম
(সা.) ইরশাদ করেন, যারা সহিহ-শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে, তারা
নেককার সম্মানিত ফিরিশতাগণের সমতুল্য মর্যাদা পাবে এবং যারা
কষ্ট সত্ত্বেও কুরআন সহিহ-শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা ও মেহনত
চালিয়ে যায়; তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।
-সুনানে আবু দাঊদ, হাদিস: ১৪৫৪
সুন্দর
কন্ঠে কুরআন শরিফ পড়া
কুরআন শরিফ সুন্দর
কন্ঠে পড়া প্রশংসনীয়। হাদিস শরিফে সুন্দর কন্ঠে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা
সুললিত কন্ঠে কুরআন শরিফ পড়, কেননা
তা কুরআনের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। -শোয়াবুল ঈমান, হাদিস:
২১৪১
তবে গানের
সুরে কুরআন তিলাওয়াত নয়। এটা কুরআন অবমাননার শামিল হওয়ায় তা বর্জনীয়। এমনকি গানের সুরে পড়তে গিয়ে হরফ
কমবেশি হলে বা এক হরফের স্থলে অন্য হরফ আদায় করা হলে লাহনে জলি হবে এবং এতে অর্থ
বিগড়ে গেলে নামাজ ভেঙে যাবে।
হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা কুরআনকে আরবি সুর ও লাহানে পড়, ফাসেক ও
পাপাচারীদের সুরে পড়ো না। শীঘ্রই এমন এক দল বের হবে যারা গান ও বিরহের সুরে কুরআন পড়বে, অথচ তা তাদের গলা অতিক্রম করবে না, তারা
খুবই রুগ্নআত্মা হবে। তাবরানি, হাদিস: ৭২২৩
বাংলা
উচ্চারণ দেখে কুরআন পড়া নাজায়েয
বর্তমানে
অনেক লোককে দেখা যায়, তারা বাংলা উচ্চারণ দেখে কুরআন পাঠ করে থাকেন, অথচ আরবি
ছাড়া অন্য ভাষায় কুরআন পাঠের সঠিক উচ্চারণ
অসম্ভব, তাই কুরআনকে অন্য
ভাষায় লিখা বা পড়া উলামায়ে কিরামের
ঐক্যমতে নাজায়েয। এতে কুরআনের শব্দ ও অর্থ বিকৃত হয়ে যায়, যা
সম্পূর্ণ হারাম। -আল ইতক্বান, পৃ: ৮৩০, ফাতাওয়ায়ে
মাহমুদিয়া: ১/৪৩
কুরআন শরিফ না
বুঝে পড়লেও সওয়াব হয়
অনেক লোককে
দেখা যায়, তারা কুরআন শুদ্ধ করার চেয়েও কুরআনের অর্থ বুঝতে বেশি আগ্রহী, অর্থ বুঝা
যদিও একটি জরুরি এবং খুব ভাল কাজ, কিন্তু
সর্বাগ্রে জরুরি হলো কুরআন তিলাওয়াত
সহিহ-শুদ্ধ করা। এটি ফরজে আইন, এর ওপর
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার ভিত্তি। আবার অনেকে বলে থাকে, কুরআন শরিফ না বুঝে পড়লে কোনো লাভ নেই, এটি একটি
ভিত্তিহীন কথা। কেননা কুরআন শরিফ পড়লেই সওয়াব অর্থ বুঝে হোক বা না
বুঝেই হোক।
হযরত উসমান (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি
কুরআনের একটি হরফ পড়বে সে একটি নেকি পাবে, আর
প্রতিটি নেকিতে দশ গুণ করে বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। -সুনানে তিরমিজি, হাদিস:
২৯১০
সালাতে (নামাজ) অশুদ্ধ কিরাত পড়া
সালাতের (নামাজ) কিরাতে বিপরীত অর্থ হয়ে যায়, এমন
ভুল পড়লে সালাত (নামাজ) নষ্ট হয়ে
যাবে, চাই তা তিন আয়াত পরিমাণের ভিতর হোক
বা পরে হোক সর্বাবস্থায় একই হুকুম। পক্ষান্তরে সাধারণ ভুল যার দ্বারা অর্থ একেবারে
বিগড়ে না যায়, সালাত (নামাজ) নষ্ট হবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ১/১১৮, ফাতাওয়া
কাজিখান: ১/৬৭
তবে সূরা-কিরাত ও সালাতের (নামাজ) তাসবিহ
ইত্যাদি শুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত সালাত (নামাজ) ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি নাই। সূরা-কিরাতও শুদ্ধ করতে
থাকবে এবং সালাতও (নামাজ) আদায় করতে
থাকবে, কিন্তু এ ধরণের লোকেরা শুদ্ধ
পাঠকারী ব্যক্তির ইমামতি করবে না।
মুহাঃ আব্দুর রহিম ।


No comments